ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় বেড়িবাঁধে ফাটল, ১৩ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০১:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০১:৫২:০৪ অপরাহ্ন
পাইকগাছায় বেড়িবাঁধে ফাটল, ১৩ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা ফোকাস বাংলা নিউজ
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর এলাকায় ভদ্রা নদীতে বেড়িবাঁধে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে।  আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে বাঁধের এই ফাটল আশঙ্কাজনক রূপ নিলে পুরো ২২ নম্বর পোল্ডার আবারও প্লাবিত হওয়ার ভয়াবহ শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ রায়ের বাড়ি সংলগ্ন প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভদ্রা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। মূল বেড়িবাঁধে কয়েকদিন আগে ছোট আকারে ফাটল দেখা গেলেও সকালে তা অত্যন্ত চওড়া ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। খড়স্রোতা ভদ্রা নদীর অব্যাহত থাবায় প্রতি বছরই নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। দীর্ঘদিনের এই সর্বনাশা ভাঙন সত্ত্বেও দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দেলুটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পলাশ কান্তি রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদ পেয়ে সকালে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করি। ফাটল যেভাবে চওড়া হচ্ছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিগত ২০২৪ সালের আগস্টের মতো পুরো ২২ নম্বর পোল্ডার ভয়াবহ প্লাবনের শিকার হবে।”

তিনি ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিলেও তা প্রায়ই দেরিতে হয়। এবার যেন সেই বিলম্ব না ঘটে এবং পাউবো কর্মকর্তারা সরজমিনে এসে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেনএটাই সবার আকুল দাবি।

দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, “২২ নম্বর পোল্ডার মানেই এই অঞ্চলের ‘কৃষি বিপ্লব’। বাঁধ ভেঙে লোনাপানি ঢুকলে কৃষকের রোপণকৃত রোপা আমন ধান, অফ-সিজনের তরমুজ, হরেক রকমের সবজি খেত ও অসংখ্য মৎস্য ঘের পুরোপুরি ভেসে যাবে।”

তিনি আরও বলছ, এর আগে গত ২২ আগস্ট ভাঙনে ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিলেন। সেই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি এড়াতে তিনি অর্থবহ পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী বলেন, -'ত্রাণ নয়, চাই টেকসই বেড়িবাঁধ'। বিগত সরকারের আমলে সাময়িক রিঙ্ক বাঁধ বা লোকদেখানো জিও ব্যাগ ও ত্রাণের বস্তা ফেলে তাদের মূল সমস্যা আড়াল করা হয়েছে। তারা আর কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা বা ত্রাণ চান না। বর্তমান সরকারের কাছে দেলুটাবাসীর দাবি- স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ২২ নম্বর পোল্ডারের হাজার হাজার মানুষের জীবন, জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা হোক।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ